খালেদা জিয়ার মুক্তি ছাড়া নির্বাচন নয়: বিএনপি

চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ছাড়া জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেবে না বিএনপি। তার মুক্তির জন্য চলমান আন্দোলনকে আরও জোরালো করার জন্য হাইকমান্ডকে তাগাদা দিয়েছেন দলটির নেতারা।

শুক্রবার দলের যৌথসভায় উপস্থিত নেতারা এ আহ্বান জানান। দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয় গুলশানে বিকাল ৪টা থেকে সন্ধ্যা সোয়া ৭টা পর্যন্ত এ বৈঠক চলে। বৈঠকে আগামী ৮ মে খালেদা জিয়ার জামিন শুনানি ও রোজায় দলের কর্মসূচি সম্পর্কে আলোচনা হয়।

পরে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গণমাধ্যম কর্মীদের জানান, এই সভায় বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছি। আগামীতে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধরের জন্য করণীয় কী আছে সে সম্পর্কে নেতারা তদের মতামত দিয়েছেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, সভায় নেতাদের বক্তব্যে খালেদা জিয়ার অসুস্থতা ও তার মুক্তির বিষয় প্রাধান্য পেয়েছে। একইসঙ্গে খুলনা ও গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

সূত্র জানিয়েছে, বৈঠকে মির্জা ফখরুল ইসলাম ঢাকা মহানগর বিএনপির কার্যক্রম নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন। সম্প্রতি দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ঘোষিত মানববন্ধন কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি এবং কর্মসূচি শেষ না করেই দ্রুত সরে যাওয়ার ঘটনায় নিজের অসহায়ত্ব তুলে ধরেন তিনি। তিনি প্রত্যেক দায়িত্বশীল নেতাকে তার কাজ সম্পর্কে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

আহমেদ আজম খান বলেছেন, বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে নেতাকর্মীদের সংযোগ রাখতে হবে। তাদেরকে বিচ্ছিন্ন করা যাবে না। দলের চলমান আন্দোলনকে ধীরে ধীরে তীব্রতর করার জন্য জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে। অন্যদিকে জাতীয় নির্বাচনের জন্য নিজেদের প্রস্ততিও রাখতে হবে। তবে খালেদা জিয়া ছাড়া জাতীয় নির্বাচনে কেউ অংশগ্রহণ করবে না।

উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান বলেছেন, এটা স্পষ্ট- আইনি প্রক্রিয়ায় খালেদা জিয়ার মুক্তি সম্ভব হবে না। এ জন্য রাজপথে রাজনৈতিক ফায়সালা হতে হবে।

উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী বলেছেন, দলের চলমান আন্দোলনকে জুলাইয়ের পর কঠোর আন্দোলনে পরিণত করতে এখন থেকেই সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। এ জন্য উপজেলা পর্যন্ত সাংগঠনিক সফর এবং বিভিন্ন আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মাঠে থাকার নির্দেশনা দাবি করেন তিনি। এক দফা আন্দোলনের ভিত্তিতে জরুরীভাবে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার কার্যক্রম আরো বেগবান করার আহ্বান জানান তিনি।

বৈঠকে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিষ্টার মওদুদ আহমদ, রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ছিলেন। ভাইস চেয়ারম্যানদের মধ্যে আবদুল্লাহ আল নোমান, আবদুল মান্নান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, বরকতউল্লাহ বুলু, মোহাম্মদ শাহজাহান, মীর নাসির, খন্দকার মাহবুব হোসেন, রুহুল আলম চৌধুরী, আবদুল আউয়াল মিন্টু, শামসুজ্জামান দুদু, এজেডএম জাহিদ হোসেন, গিয়াস কাদের চৌধুরী, শওকত মাহমুদ ছিলেন। এছাড়া চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা রিয়াজ রহমান, আবুল খায়ের ভুঁইয়া, গাজী মাজহারুল আনোয়ার, তাহমিনা রুশদী লুনা, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, হারুনুর রশীদ, সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *