বিশ্বের প্রভাবশালী দুই নেতা ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভ্লাদিমির পুতিন

পুতিনের প্রতি আন্তরিকতায় নিজ দলে তোপের মুখে ট্রাম্প

বিশ্বের প্রভাবশালী দুই নেতা ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভ্লাদিমির পুতিন। গত মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আঁতাত নিয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফিনল্যান্ডের রাজধানী হেলসিনকিতে দুই নেতার এক বৈঠকে পুতিন দাবি করেন, রাশিয়া মার্কিন নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করেনি। পুতিনের সে মন্তব্যের প্রতি সমর্থন জানিয়ে, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার মন্তব্যের বিরোধিতা করেছেন। এজন্য নিজ দেশে তীব্র সমালোচনার শিকার হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

 

বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, কংগ্রেসের শীর্ষ রিপাবলিকান, হাউজ স্পিকার পল রায়ান বলেন, প্রেসিডেন্টের এটা অবশ্যই বোঝা উচিত যে রাশিয়া আমাদের মিত্র নয়।

 

প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন তারা নিজের গোয়েন্দা প্রধানও। জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান ড্যান কোটস জনসম্মুখে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রকে ছোট  করার চলমান প্রচেষ্টার পেছনে রাশিয়া দায়ী। তবে পুতিন এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

 

সোমবার হেলসিনকিতে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে বৈঠক করেন ট্রাম্প ও পুতিন। এসময় তাদের ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টারাও তাদের সঙ্গে ছিলেন না।

 

বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্পকে জিজ্ঞেস করা হয়, মার্কিন নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপ নিয়ে তিনি কি নিজ দেশের গোয়েন্দা সংস্থার কথা বিশ্বাস করেন নাকি পুতিনকে বিশ্বাস করেন।

 

এদিকে, সিনেট ডেমোক্রেটিক নেতা চাক শুমার কয়েকটি ধারাবাহিক টুইটে বলেন, ট্রাম্পের কার্যক্রম যুক্তরাষ্ট্রের শত্রুদের শক্তিশালী করে তুলেছে এবং আমাদের প্রতিরক্ষা ও মিত্রদের দুর্বল করে তুলেছে।

 

সাবেক সিআইএ পরিচালক জন ব্রেনান বলেন, ট্রাম্পের সংবাদ সম্মেলন কোন দিক দিয়ে রাষ্ট্রদ্রোহের চেয়ে কম ছিল না।

 

এক টুইটে তিনি লিখেন, ট্রাম্পের মন্তব্যগুলো কেবল নির্বুদ্ধিতার পরিচয়ই ছিল না, তিনি পুরোপুরি পুতিনের পকেটেই ঢুকে গেছেন। রিপাবলিকান দেশপ্রেমিকরা, আপনারা কোথায়?

 

এদিকে, ট্রাম্পের বৈঠকের পক্ষে কথা বলেছেন ভাইস-প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স। তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রশংসাও করেছেন।

সাবেক রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জন ম্যাককেইন এক টুইট বার্তায় বলেছেন, এটি কোন মার্কিন প্রেসিডেন্টদের ইতিহাসে লজ্জার, অপমানে, মর্যাদাহানির সম্মানহানির চূড়ান্ত রূপ। এরআগে কোন মার্কিন প্রেসিডেন্ট একজন অত্যাচারীর সামনে এমন শোচনীয়ভাবে নিজেকে অপদস্ত করেননি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *