ধবলধোলাই এড়াতে পারবে বাংলাদেশ?

ভারতের দেরাদুনে যাওয়ার আগে রশিদ খান, মুজিব উর রহমানদের নিয়ে প্রশ্ন করা হলে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা খানিকটা বিরক্ত হতেন। তাদের নিয়ে অতিরিক্ত আলোচনার কিছু আছে বলে তারা মনে করেননি। শক্তিমত্তায় আফগানিস্তানের চেয়ে ঢের এগিয়ে বাংলাদেশ। অর্থকড়ি এবং অভিজ্ঞতায়ও। কেবল র‌্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকা আফগানিস্তান নাস্তানাবুদ করবে বাংলাদেশকে সেটা শুধু খেলোয়াড় কেন, বাংলাদেশ দলের সমর্থকরাও ভাবেননি।

কিন্তু ভাবনা আর বাস্তবতা কখনো কখনো এক বিন্দুতে এসে মিলিত হয় না। সেটাই দেখিয়ে ছিল আফগানিস্তান। প্রথম ম্যাচে ৪৫ রানে বাংলাদেশকে হারারো পর দ্বিতীয় ম্যাচে ৬ উইকেটে হারিয়ে সিরিজ জিতে নেয় তারা। অসহায় আত্মসমার্পণ করে সিরিজ খোয়ায় বাংলাদেশ। এবার আফগানিস্তানের কাছে ধবলধোলাই হওয়ার লজ্জার সামনে টাইগাররা। বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে আটটায় শুরু হবে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচটি। ভারতের দেরাদুনের রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম থেকে ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করবে গাজী টিভি।

আগের দুই ম্যাচে বাংলাদেশ বোলিং কিংবা ব্যাটিং কোনো বিভাগেই খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি। ব্যাটিংয়ে এসে আফগানিস্তানের মোহাম্মদ শাহাজাদ, সলিমুল্লাহ শেনওয়ারি, মোহাম্মদ নবী, আসগর স্টানিকজাইরা বাংলাদেশের বোলারদের শাসন করেছেন। আর বোলিংয়ে এসে রশিদ খান, মুজিব উর রহমান ও মোহাম্মদ নবী শাসন করেছেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের। তারা বল হাতে আসলেই কেমন যেন অস্বাভাবিক ব্যাটিং করেন বাংলাদেশের স্বীকৃত ব্যাটসম্যানরা। দ্বিতীয় ম্যাচে ৪ উইকেটে ৯৭ রান তুলল বাংলাদেশ। এরপর রশিদ খান এসেই সব ওলট-পালট করে দিলেন। ৪ ওভার বল করে ১২ রান দিয়ে নিলেন ৪টি উইকেট! ৪ উইকেটে ৯৩ থেকে ৮ উইকেটে হয়ে গেল ১০৮ রান। রশিদ, মুজিব ও নবীর পাশাপাশি পেসার শাপুর জাদরান ও করিম জানাতও বেশ প্রভাব বিস্তার করে বল করছেন। তাদের সামনে বাংলাদেশকে কেমন যেন অচেনা লাগছে। এমন খাপছাড়া পারফরম্যান্সের খোলস থেকে বের হয়ে আসতে পারবে বাংলাদেশ? সেটা জানতে অপেক্ষা করতে হবে রাত পর্যন্ত।

তবে হোয়াইটওয়াশের লজ্জা এড়ানো জন্য ঘুরে দাঁড়ানো দরকার বাংলাদেশের। নিজেদের আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়া প্রয়োজন। মুশফিক, সাকিব, তামিম, মাহমুদউল্লাহরা যদি নিজেরা নিজেদের অনুপ্রাণিত করতে পারেন, আত্মবিশ্বাসী করে তুলতে পারেন এবং মাঠে নিজেদের সেরাটা দিতে পারেন তাহলে হয়তো ধবলধোলাই হওয়ার লজ্জার হাত থেকে রক্ষা পাবে বাংলাদেশ। নইলে? আফগানিস্তানের কাছে হোয়াইটওয়াশ হয়ে দেশে ফিরতে হবে টাইগারদের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: