একাত্তর টিভি – বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মত নিম্নমানের কু-ব্যান্ডের সেবা কিনবে না :মোজাম্মেল বাবু

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মত নিম্নমানের কু-ব্যান্ডের সেবা কিনবে না একাত্তর টিভি – মোজাম্মেল বাবু!!

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট নিয়ে অনেকে অনেক কথা বলেছেন। অনেকে অঙ্ক কষে বলে দিয়েছেন এই স্যাটেলাইটের ট্রান্সপোন্ডার্স বা অরবিটাল স্লট ভাড়া দিয়ে মোট খরচের অর্ধেকও উঠে আসবে না। আমার মনে হয় এসব প্রিম্যাচিউর কথাবার্তা। এক্সাক্ট ফিগার এখনই দেওয়া সম্ভব নয়। তবে একটা বিষয় প্রায় চোখ বন্ধ করে বলে দেওয়া যায়, এই প্রজেক্টটা ফিন্যান্সিয়ালি একটা ফেইল্ড প্রজেক্ট। কেউ কেউ দাবি করে ফেলছেন, স্যাটেলাইটের মালিকানা বেক্সিমকোর। ব্যাপারটা অমন না, কিন্তু এটা বলা বোধ হয় অত্যুক্তি হবে না যে, পুরো প্রকল্পই সম্ভবত নেওয়া হয়েছে বাংলার কোক ব্রাদার্স (অথবা সরোস) তথা বেক্সিমকো গ্রুপের ব্যবসায়িক স্বার্থে।

প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা বোধ হয় প্রকল্প ব্যয়। অর্ধেক এইচএসবিসির কাছ থেকে ঋণ, বাকিটা করদাতাদের টাকা। বলা হচ্ছে, এই স্যাটেলাইট পরিচালনার জন্য নতুন প্রতিষ্ঠান খোলা হয়েছে। যেই প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ থেকে স্যাটেলাইট অপারেট করবে। যেটা বলা হচ্ছে না, তা হলো, এই প্রতিষ্ঠানের প্রধান হলেন একজন আমলা, যার নাই কোনো ব্যবসায়িক ট্রেনিং, নাই কোনো টেকনিক্যাল জ্ঞান।

এই স্যাটেলাইটের অরবিটাল স্লট বা ট্রান্সপোন্ডার্স ভাড়া দিয়ে কুটি কুটি বৈদেশিক মূদ্রা অর্জনের সম্ভাবনা আসলেই কম। স্যাটেলাইটের একটা বড় গ্রাহক হবে টিভি চ্যানেলগুলো, এমনটাই বলা হচ্ছে। কিন্তু চেতনার সবচেয়ে বড় ফেরিওয়ালা একাত্তর টিভিও এই স্যাটেলাইটের ‘কু-ব্যান্ডে’র ট্রান্সপোন্ডার্স ভাড়া নিয়ে লোকসান গুনতে রাজি না। নান আদার দ্যান, মোজাম্মেল বাবু বলেছেন, কু-ব্যান্ড নাকি সামান্য বৃষ্টিতেই এত ডিস্টার্ব করে যে সম্প্রচার বন্ধ রাখতে হয়। টিভি চ্যানেলের পক্ষে একটা প্রতিনিধি দল আইসিটি মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে বলে এসেছে, কু ব্যান্ড আর ব্যবহার হয় না। আর এই স্যাটেলাইটের ৪০টা ট্রান্সপোন্ডারের মধ্যে ২৬টাই কু ব্যান্ডের, বাকি মাত্র ১৪টা হলো সি ব্যান্ডের। মোজাম্মেল সাহেব আরও বলেছেন, এই স্যাটেলাইটের অরবিটাল পজিশনও নাকি তাদের জন্য সমস্যার।

বাকি থাকে ডিটিএইচ (ডিরেক্ট টু হোম প্রযুক্তি–টাটা স্কাইয়ের মতো অ্যান্টেনা বসিয়ে ক্যাবল চ্যানেল দেখা)-ওয়ালাদের কাছে ভাড়া দেওয়া। এখানেই চলে আসে বেক্সিমকো গ্রুপ। এমনকি পাকিস্তান পর্যন্ত ২০১৬ সালের নভেম্বরে ডিটিএইচ লাইসেন্সের জন্য নিলামের মাধ্যমে ১৪৬৯ কোটি রূপি রাষ্ট্রীয় তহবিলে নিয়েছে । কিন্তু আমাদের দেশে বেক্সিমকো এই ডিটিএইচ লাইসেন্স কীভাবে পেল, তার কোনো খবর আপনারা পেয়ছেন? শুধু তা-ই না, শুধুমাত্র বেক্সিমকোই এই ডিটিএইচ সেবা চালাইতে পারবে দেশে। আর কেউ পারবে না।

আরও মজার ব্যাপার হইলো, বেক্সিমকো এই স্যাটেলাইটের অরবিটাল স্লট ভাড়া যেমন নিয়েছে, তেমনি এই সিগন্যাল ফ্রিকোয়েন্সি বরাদ্দ দেওয়ারও দায়িত্ব পেয়েছে! বেক্সিমকো ও বায়াস মিডিয়া নামে দুইটা প্রতিষ্ঠানকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এখানে একটা বিরাট কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট বা মনোপলি হয়ে গেল, যেটার দাম ৩ হাজার কোটি টাকা

অথচ, কোন প্রক্রিয়ায় এই কোম্পানি দুইটাকে এমন দায়িত্ব দেওয়া হলো, সেইটা আপনি জানেন না। প্লিজ গিলটি ফিল কইরেন না, খোদ বিটিআরস্যার চেয়ারম্যানও জানেন না। এই ব্যাপারে প্রশ্ন করলে বিটিআরসির চেয়ারম্যান বলেন, ‘এটি তথ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত। এটা স্পর্শকাতর একটি বিষয়, আমার কাছে সঠিক উত্তর নেই।

শুধু বেক্সিমকোই নয়। এই প্রকল্পের কনসাল্টেন্ট প্রতিষ্ঠান নিয়েও গাফলা আছে। মিডিয়ায় যতই প্রকাশ করা হোক “মার্কিন পরামর্শক প্রতিষ্ঠান”, আসল সত্যটা হলো এই প্রতিষ্ঠানটা সম্ভবত ফ্রন্ট। এটার মূলে আছেন শফিক এ. চৌধুরী, যিনি আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ফারুক খানের ছোট ভাই ফরিদ খানের বায়রা ভাই। কগলোমিরেট সামিট গ্রুপ হলো তাদের পারিবারিক কোম্পানি। এই সামিট গ্রুপও বেক্সিমকোর মতো ব্যপক পাওয়ার উইল্ড করে বর্তমান অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে। এই কনসাল্টেসি পাওয়ার আগে ‘স্পেস পার্টনারশিপ ইন্টারন্যাশনালে’র তেমন কোনো নামডাকও ছিল না। অথচ, এই কোম্পানিরেই ১ কোটি ডলারের বিনিময়ে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাছাই করা হয়।

ডিটিএইচ, দেশী টিভি চ্যানেলের বাইরে বিদেশী গ্রাহককে টার্গেট করার কথা শোনা গেছে। কিন্তু যেখানে প্রতিবেশী ভারতেরই আছে ৮০টার মতো স্যাটেলাইট, চীনের ২ শতাধিক, সেখানে আমরা কি কম্পিটিটিভ প্রাইস অফার করতে পারবো?

আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে, শুধুমাত্র বেক্সিমকোরে ডিটিএইচ ব্যবসা চালানোর সুযোগ করে দিতেই এত এলাহী আয়োজন। কিন্তু মূল কাহিনী এড়াইতে বাঙালিরে চেতনার ধুলা মেরে ঠান্ডা করে রাখতেই স্যাটেলাইটের নাম দেওয়া হইলো ‘বঙ্গবন্ধু’। বাঙ্গালি যতদিন না বুঝবে, বঙ্গবন্ধু বা মুক্তিযুদ্ধ – এসব চেতনায়িত টার্ম ইনভোক করার নেপথ্যে থাকে হাজার হাজার কোটি টাকা তছরুফের খেলা, ততদিন বাঙ্গালির কপালে খালি দুঃখই আছে।

নাজমুল আহসানের ফেসবুক পেজ থেকে সংগৃহীত

One thought on “একাত্তর টিভি – বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মত নিম্নমানের কু-ব্যান্ডের সেবা কিনবে না :মোজাম্মেল বাবু

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *