ভারতকে হারিয়ে এশিয়া কাপে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন

জয়ের জন্য শেষ বলে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ২ রান। ১ রান হলে ম্যাচ গড়াবে সুপার ওভারে। ২ রান হলে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ। বোলিংয়ে ভারতের অধিনায়ক হারমানপ্রিত কাউর। ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের অলরাউন্ডার জাহানারা আলম। বলটাকে মিড উইকেটে ঠেলে দিয়েই দ্রুততার সঙ্গে ২ রান নিলেন জাহানারা ও সালমা। তাতেই হয়ে গেল ইতিহাস। আগের ছয় আসরের চ্যাম্পিয়ন ভারতকে ৩ উইকেটে হারিয়ে মেয়েদের এশিয়া কাপে প্রথম শিরোপা জিতল বাংলাদেশ।

পুরুষদের আগে এশিয়া কাপের শিরোপা জিতে নিল বাংলাদেশের মেয়েরা, যা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সাফল্য। এর আগে বাংলাদেশ পুরুষ দল এশিয়া কাপের ফাইনালে দুবার হার মেনেছিল। আজকেও তেমনই একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। কিন্তু জাহানারা আলম ও সালমা খাতুনের বুদ্ধিদীপ্ত রানে শিরোপা জিতে নেয় বাংলাদেশ।

রোববার ১১৩ রানের জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে উদ্বোধনী জুটিতে ৩৫ রান তোলেন শামীমা সুলতানা ও আয়শা রহমান। এই জুটি ভাঙেন পুনম যাদব। আয়শাকে ঝুলান গোস্বামীর ক্যাচ বানিয়ে সাজঘরে ফেরান পুনম। একই রানে শামীমা সুলতানাকেও ফেরান তিনি। তৃতীয় উইকেটে ফারজানা হক ও নিগার সুলতানা ২০ রান তোলেন। দলীয় ৫৫ রানে পুনমের তৃতীয় শিকারে পরিণত হয়ে ফিরে যান ফারজানা। চতুর্থ উইকেটে ২৮ রান তোলেন নিগার সুলতানা ও রুমানা আহমেদ। দলীয় ৮৩ রানের মাথায় নিগার সুলতানাকে নিজের চতুর্থ শিকারে পরিণত করেন পুনম যাদব। ৯৬ রানে মাথায় ফাহিমা খাতুন আউট হলে শিরোপা জেতার ক্ষেত্রে শঙ্কা জাগে। কিন্তু সানজিদা ইসলাম, রুমানা আহমেদ ও জাহানারা আলমের দৃঢ়তায় বাংলাদেশ ভারতকে হারিয়ে দেয় শেষ বলে। জিতে নেয় এশিয়া কাপে প্রথম শিরোপা।

ব্যাট হাতে বাংলাদেশের নিগার সুলতানা সর্বোচ্চ ২৭ রান করেন। ২৩ রান করেন রুমানা আহমেদ। আয়শা রহমান ১৭ ও শামীমা করেন ১৬ রান। ১১ রান আসে ফরাজানা হকের ব্যাট থেকে। শেষ দিকে ফাহিমা খাতুন ৯ ও সানজিদা করেন ৫ রান।

বল হাতে ভারতের পুনম যাদব একাই নেন ৪ উইকেট। ২টি উইকেট নেন হারমানপ্রিত। ফাইনালে ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন রুমানা আহমেদ। আর সিরিজসেরা হন হারমানপ্রিত।

তার আগে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরের কিনরারা একাডেমি ওভালে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারায় ভারত। ১২ রানেই রান আউটে কাটা পড়েন স্মৃতি মান্দানা (৭)। ২৬ রানের মাথায় দীপ্তি শর্মাকে বোল্ড করে ভারতকে চাপে ফেলে দেন জাহানারা আলম। ২৮ রানের মাথায় অভিজ্ঞ মিতালি রাজকে খাতিজাতুল কুবরা ফারজানা হকের ক্যাচ বানিয়ে আউট করলে বিপর্যয়ে পড়ে ভারত। ৩২ রানে যেতেই ৪ উইকেট হারিয়ে বসে ভারত। এ সময় অঞ্জু পাতিল ফিল্ডিংয়ে বাধা দেওয়ায় আউট হয়ে যান।

পঞ্চম উইকেটে কিছুটা বিপর্যয় কাটানোর চেষ্টা করেন অধিনায়ক হারমানপ্রিত কৌর ও ভেদা কৃষ্ণমূর্তি। কিন্তু ৬২ রানের মাথায় গিয়ে কৃষ্ণমূর্তিকে বোল্ড করেন সালমা খাতুন। এরপর ৭২ রানে ষষ্ঠ ও ৭৪ রানে সপ্তম উইকেট হারায় ভারত। অষ্টম উইকেটে ঝুলান গোস্বামী হারমানপ্রিতের সঙ্গে ৩৩ রান তোলেন। ১০৭ রানের মাথায় ঝুলান রান আউট হয়ে যান। এদিন ভারতের মেয়েদের আসা যাওয়ার মিছিলে ব্যতিক্রম হয়ে দাঁড়ান অধিনায়ক হারমানপ্রিত। শেষ বলে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে আউট হলেও ৫৬ রানের কার্যকরী ইনিংসে খেলেন তিনি। তাতে ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১১২ রানে থামে ভারতের ইনিংস।

ব্যাট হাতে হারমানপ্রিত কৌর করেন সর্বোচ্চ ৫৬ রান। ৪২ বলে ৭ চারে এই রান করেন তিনি। ১১ করে রান করেন মিতালি রাজ ও কৃষ্ণমূর্তি। ১০ রান আসে ঝুলান গোস্বামীর ব্যাট থেকে।

বল হাতে বাংলাদেশের রুমানা আহমেদ ৪ ওভারে ২২ রান দিয়ে ২টি ও খাদিজাতুল কুবরা ৪ ওভারে ২৩ রান দিয়ে ২টি উইকেট নেন। ১টি করে উইকেট নেন সালমা খাতুন ও জাহানারা আলম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: