অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান মহাকাশে বাংলাদেশ

বাংলাদেশের সাড়ে ষোলো কোটি মানুষের অপেক্ষার প্রহর শেষ হলো। বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ শুক্রবার রাত ২টা ১৪ মিনিট সফল উৎক্ষেপনের মধ্য দিয়ে মহাকাশে পাড়ি দিয়েছে।নতুন যুগে প্রবেশ করলো বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ ।

গৌরবের আরেকটি পালক যুক্ত হবে বাঙালি জাতির অর্জনে। যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি মহাকাশ অনুসন্ধান ও প্রযুক্তি কোম্পানি ‘স্পেসএক্স’ ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারের লঞ্চ প্যাড থেকে স্যাটেলাইটটি উৎক্ষেপণের পর বাংলাদেশ যুক্ত হলো উপগ্রহধারী এলিট ক্লাবের ৫৭তম সদস্য।

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে যাত্রা শুরু করে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১। এর কক্ষপথ হবে পূর্ব দ্রাঘিমার ১১৯.১° ডিগ্রীতে। এর বিস্তৃতি হবে ইন্দোনেশিয়া থেকে তাজিকিস্তান পর্যন্ত।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট স্থাপনের মাধ্যমে স্যাটেলাইট প্রযুক্তি ব্যবহারে অন্য দেশের ওপর আর নির্ভরশীল হতে হবে না আমাদের। বর্তমানে দেশের সব স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেলগুলো বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে স্যাটেলাইট ভাড়া করে সম্প্রচার চালাচ্ছে । ফলে ভাড়া বাবদ বছরে দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে অনেক অর্থ। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মাধ্যমে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে। পাশাপাশি অন্য দেশকে স্যাটেলাইট ভাড়া দিয়ে আয় করাও সম্ভব হবে। বর্তমানে বিশ্বে ৫৬টি দেশের নিজস্ব উপগ্রহ রয়েছে। আর দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর মধ্যে ভারত (১৯৭৫), পাকিস্তান (১৯৯০) ও শ্রীলঙ্কার (২০১২) নিজস্ব স্যাটেলাইট রয়েছে। ২০১৫ সালের ২১ অক্টোবর সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট’ উৎক্ষেপণে ‘স্যাটেলাইট সিস্টেম’ কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। এরপর ১১ নভেম্বর ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট’ উৎক্ষেপণের জন্য প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার ‘স্যাটেলাইট সিস্টেম’ কিনতে থালিসের সঙ্গে চুক্তি করে বিটিআরসি।

টেলিভিশন চ্যানেল ছাড়াও ইন্টারনেট, ও টেলিযোগাযোগ সেবাসহ অনেক সেবা পাওয়া যাবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মাধ্যমে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *