সমুদ্রের তলদেশে বিলাশ বহুল হোটেল!

মালদ্বীপ এখন পর্যটকদের কাছে একটি বিশেষ কারণে আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। কেননা মালদ্বীপের রাঙ্গালি দ্বীপে ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য খোলা হয়েছে ব্যতিক্রমী একটি হোটেল। যার অবস্থান মাটি কিংবা পানির উপর নয়, বরং সাগরের নিচে। বিশ্বে প্রথম পানির তলের রিসোর্টের আরাম উপভোগে তাই পর্যটকদের ভিড় বৃদ্ধি পেয়েছে।
সাগর তলের এই হোটেলটির নাম রাখা হয়েছে ‘কনরার্ড মালদ্বীপ রাঙ্গলি দ্বীপ’। যেখানে পর্যটকেরা পাবেন সাগর তলের জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা। দেখতে পাবেন জলজপ্রাণীর খেলা এবং রূপকথার গল্পের মতোই মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। সামুদ্রিক প্রাণীরা এখানে এতটাই কাছে থাকছে যে পানির উপরে আর নিচের পার্থক্যই বোঝা দায়।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সাগরের প্রায় ১৭ মিটার গভীরে প্রবালের কার্পেটে অসাধারণ সৌন্দর্য উপভোগ করতে পর্যটকদের গুনতে হবে বিপুল পরিমাণ অর্থ।
প্রতি রাতের জন্য এই হোটেলের প্রতিটি কক্ষের ভাড়া রাখা হচ্ছে ৫০ হাজার মার্কিন ডলার, টাকার হিসেবে প্রায় ৪০ লক্ষ। তাও আবার সব ধরনের শুল্ক বাদে! এই পরিমাণ অর্থ দেয়ার সাধ্য থাকলে তবেই মিলবে আরামের বিছানায় শুয়ে সমুদ্রতলের অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগের সুযোগ।
হোটেলটির নির্মাণ কাজ শেষ হলে গত বছরের শেষে তা পর্যটকদের জন্য খুজে দেয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়। হোটেলটিতে রয়েছে সুইমিং পুল, শয়ন কক্ষ, গোসল খানা, রান্না ঘর, খাবার ঘর, বার, ব্যক্তিগত কক্ষ ও ব্যায়ামাগার। প্রতিবেদনে বলা হয়, এটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
হোটেলটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে পর্যটকেরা চাইলেই পানির তলের চলমান ঘটনাবলী ধারাবাহিকভাবে দেখতে পারেন। হোটেলটি যারা নির্মাণ করছেন তাদের দাবি, এটাকে পর্যটকদের জন্য এমনভাবে নির্মাণ করা হয়েছে যা বিশ্বের কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না। স্থাপনাটি নির্মাণ করেছে নিউজিল্যান্ডের ক্রাউন কোম্পানি।
হোটেলটির স্থপতি আহমেদ সেলিম জানিয়েছেন, হোটেলে চারপাশে কাঁচের গ্লাসের টানেল দিয়ে ঢাকা করিডোর রয়েছে। যেখান থেকে সমুদ্রের অসাধারণ দৃশ্য দেখা যায়।
হোটেলের বাসিন্দারা খাওয়ার জন্য যখন রেস্টুরেন্টে যান তখন সম্মুখীন হন অসাধারণ অভিজ্ঞতার। রেস্টুরেন্টে প্রবেশের জন্য পানির মধ্যে ভাসমান একটি কাঠের সেতু পাড় হতে হয়। সেতুটি এমনভাবে দড়ির উপর লাগানো রয়েছে যে জোয়ার ভাটার সময়েও তা সহজেই ভেসে থাকে।
মালদ্বীপের গলদা চিংড়ি আর পশ্চিমা খাবারসহ রেস্টুরেন্টে প্রায় ১৪টি পদ রয়েছে। অবশ্য হোটেলের থাকার খরচের মতো এগুলোর দামও আকাশচুম্বী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: